মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকায় কৃষি কাজে নারীর অংশ গ্রহণ বেড়েই চলেছে। পুরুষের সঙ্গে সমান তালে কৃষি কাজে শ্রম দিচ্ছেন নারীরা। তবে এখনও মুজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পাটকেলঘাটায় কৃষি জমিতে আগের তুলনায় নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃষি উৎপাদনে জমিতে ধানের চারা রোপণ থেকে শুরু করে আগাছা বাছাই,সার দেওয়া,ধান কাটা ও মাড়াই সহ নানা কাজে নারীরা পুরুষের পাশা পাশি সমান অবদান রাখছেন। তবে নারী শ্রমিকদের দাবি,এখনও তারা পারিশ্রমিক নির্ধারণে বৈষ্যমের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,৫-৬ জন নারীকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষেতের আগাছা তুলছেন মনজিলা বেগম। আলাপকালে তিনি বলেন, তার স্বামী কর্মক্ষম,যে কারনে তাকে মাঠে কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। তাদের সংসারে চরম অভাব-অনটন। এদিকে, তৈল কুপির মাঠে কাজ করতে গিয়ে কথা হয় জরিনা বেগমের সাথে তিনি স্বামীর সঙ্গে মাঠে কাজ করতে নেমে পড়েন। প্রথম দিকে একটু লজ্জা-দ্বিধায় থাকতেন। দু’জন মিলে আয় রোজগার করে এখন তারা ভালোই আছেন। তবে পুরুষের তুলনায় তাদের বেতন অনেক কম। পুরুষরা যত ক্ষণ কাজ করেন,তারাও একই সময় কাজ করে অনেক কম বেতন পান বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। অপর নারী শ্রমিক সুফিয়া বেগম বলেন,তারা ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে নিজেদের সংসারের রান্না সহ অন্যান্য কাজ করে পুরুষদের সঙ্গেই কাজে চলে আসেন। ক্ষেতের কাজও সমান তালে পুরুষের সঙ্গে করে থাকেন। কিন্তু তারা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হাজিরা পান। অথচ পুরুষরা সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পেয়ে থাকেন। তিনি বলেন,স্বীকার করছি যে,পুরুষদের মতো সব কাজই আমরা করতে পারি না। যেমন জমিতে কীটনাশন ছিটানো,মাথায় করে বোঝা বহন ইত্যাদি। কিন্তু তাই বলে এত বৈষম্য পুরুষ শ্রমিক ৫০০ টাকা পেলে আমাদের ৪০০ টাকা দিক, তাই বলে ২৫০-৩০০। এই বৈষম্য দূর করার দাবি জানান তিনি। একই এলাকার কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন,নারীরা কৃষি ক্ষেতের নানান কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন বলেই এখনও কৃষিকাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে। তা না হলে কৃষি ক্ষেতে শ্রমিক পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ত। শ্রমিক সংকটে বাধ্য হয়ে অনেককেই কৃষি কাজ বাদ দিতে হতো। তবে নারীরা তো শারীরিক ভাবে কিছুটা দুর্বল হয়ে থাকেন। কাজও পুরুষের তুলনায় কিছুটা কমই করতে পারেন। তাই মুজরি কম পান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, আদি কাল থেকেই কৃষিতে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। অতীতে নারীরা সরাসরি কৃষি কাজ না করলেও ফসল কেটে বাড়ি আনার পর প্রায় পুরো কাজ নারীরাই শেষ করতেন। তবে এখন পুরুষের সঙ্গে সমান তালে নারীরা কৃষি কাজ করে যাচ্ছেন এটি সুখবর। বর্তমানে কৃষিতে নারীর অংশ গ্রহণ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এটিকে আরও বাড়িয়ে নিতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
এ লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ নারীর অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা হয় বলে তিনি জানান।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়