মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সিকান্দার আবু জাফরের এই পৈতৃক ভিটায় দাঁড়িয়ে আছে মুসলিম স্থাপত্য শৈলীর এক অনন্য নিদর্শন তেঁতুলিয়া মিয়ার মসজিদ। ১৮ শতকে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। অযত্নে,অবহেলা আর দীর্ঘ দিনের সংস্কারহীনতায় এর সৌন্দর্য ও অস্তিত্ব দুই-ই আজ হুমকির মুখে। খুলনা-পাইকগাছা সড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত এই মসজিদটি মূলত খান বাহাদুর কাজী সালামতউল্লাহ জামে মসজিদ নামে পরিচিত। তবে স্থানীয়রা একে মিয়ার মসজিদ নামেই চেনেন। ব্রিটিশ আমলের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও তেঁতুলিয়ার জমিদার কাজী সালামতউল্লাহ খান বাহাদুর আগ্রার তাজমহলের স্থাপত্যশৈলীর অনুকরণে এটি নির্মাণ করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর একে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও দৃশ্যত এর ভাগ্যের কোনো বদল হয়নি। চুন-সুরকি আর চিটা গুড়ের নিপুণ গাঁথুনিতে নির্মিত এই মসজিদে ১৫ ফুট উচ্চতার ৬টি বড় গম্বুজ এবং ৮ ফুট উচ্চতার ১৪টি ছোট মিনার ছিল। এ ছাড়া চার কোণে ছিল ২৫ ফুট উচ্চতার চারটি দৃষ্টি নন্দন মিনার। ৯ ফুট উঁচু ও ৪ ফুট চওড়া মোট সাতটি প্রবেশপথ রয়েছে এতে,যার প্রতিটির ওপর রঙিন কাচের ঘুলঘুলি এক সময় আলোর খেলা তৈরি করত। মসজিদের সামনেই রয়েছে একটি গভীর পুকুর,যেখান থেকে সিঁড়ি উঠে গেছে মূল চত্বরে।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে,মসজিদটি একসময় সমতল ভূমি থেকে এতটাই উঁচুতে ছিল যে এর নিচ দিয়ে ধান বোঝাই গরুর গাড়ি চলাচল করতে পারত। কালের বিবর্তনে মসজিদের তলদেশ এখন সমতলের সঙ্গে মিশে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,মসজিদের মেঝে এবং পশ্চিম পাশের দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ইতো মধ্যে আটটি ছোট মিনার ভেঙে পড়েছে,বাকিগুলোও যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মসজিদের সীমানার ভেতরে থাকা অনেক পুরনো কবরের চিহ্ন থাকলেও সেগুলো এখন অরক্ষিত এবং সেখানে চাষাবাদ করা হচ্ছে। বর্তমানে তেঁতুলিয়া শাহী জামে মসজিদ নামে পরিচিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে আজও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন। তবে সংস্কারের অভাবে পর্যটকরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, দুই শ’ বছরের পুরনো এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন। অন্যথায় হারিয়ে যাবে সাতক্ষীরার ইতিহাসের এক অনন্য সাক্ষী।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়