ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির রাজাপুরে খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন নৌ পরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, “খালের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে কারা দখল করেছে। শক্তি প্রয়োগ নয়—তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করলেই যথেষ্ট।”
রোববার দুপুরে উপজেলার আংগারিয়া এলাকার তুলাতলা খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রতিটি খাল পুনরুদ্ধার করে জনগণের ব্যবহার উপযোগী করা সরকারের অঙ্গীকার। একসময় খালকে কেন্দ্র করেই মানুষের জীবন-জীবিকা গড়ে উঠেছিল—সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। তিনি এটিকে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবেও উল্লেখ করেন।
খনন কাজে অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “দেশে একটি প্রচলিত কথা আছে—খাল খনন না করে ‘খাল শেভ’ করা হয়। এমন যেন না হয়, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
প্রকৃত খনন কাজ নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, খনন কাজ শেষে তা যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা পরিমাপ করে দেখা হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় ঝালকাঠি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পথ ধরে এবং তারেক রহমানের পরিকল্পনার আলোকে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে খাল খনন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা বর্তমানে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ সৈয়দ হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রিফাত আরা মৌরিসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
বর্তমান সরকারের খাল, জলাধার ও পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌ-চলাচল, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং জনজীবনের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ তুলাতলা খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও নৌযাতায়াতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়