ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নে ছাত্রদল নেতা ফেরদৌস রিপনের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। ঘটনার প্রায় ১২ দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে প্রধান আসামি মাহামুদ হাওলাদার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে চুরি হওয়া একটি অটোরিকশার ব্যাটারি তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে রিপনকে ডেকে নেয়। পরবর্তীতে রাত প্রায় ৮টা ১৫ মিনিটে রিপন, ফারুক হাওলাদার ও মো. বাবুল হাওলাদার শুক্তাগড় ইউনিয়নের সাকরাইল এলাকায় মাহামুদ হাওলাদারের বাড়িতে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, মাহামুদ হাওলাদার, শহিদ খাঁ, রাজু, চয়ন হাওলাদার, লিলি বেগম, খুকু বেগম, রুম্পা আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রিপনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রিপনের দুই হাতের কব্জির ওপরের অংশে গুরুতর হাড় ভেঙে যায়। এলোপাতাড়ি মারধরে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।
একপর্যায়ে রিপন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং তার সঙ্গে থাকা প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে সেখান থেকেও তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে হামলার পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে খুকু বেগম বাদী হয়ে ঝালকাঠি আদালতে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানা গেছে।
রিপনের মা ঝর্ণা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, “আসামিদের গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তারা কেউ প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে না। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়