মোক্তার আহমেদ :
১লা" মে 'আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রেলি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে"পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকার সাংবাদিক ফাউন্ডেশন। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মো:মোক্তার আহমেদ, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ জুবায়েরুল ইসলাম।
১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা 'মে দিবস' বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মরণে এই দিনটি পালিত হয়। এটি শ্রমিকদের ন্যায়সংগত মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও অধিকার আদায়ের
আন্দোলনের দিন।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান মো:খুরশিদ আলম, নগর সম্পাদক শেখ আলী আব্বাস, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম,অর্থ সচিব সাতকাতুল ইসলাম নীরব, তথ্য সমন্বয়কারী মুরাদ হোসেন আকাশ,কার্যকরী সদস্য মোশারফ হোসেন ও ঢাকা জেলার গুলশান থানা, ভাটারা থানা ছাড়াও অন্যান্য থানা কমিটি সহ প্রমুখ নেতা কর্মী এবং শুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা তাদের বক্তৃতায় বলেন:
১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য দাবির স্মারক এই দিন। বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও উন্নয়নের পেছনে শ্রমিক শ্রেণির অবদান অপরিসীম। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, নির্মাণ খাত, পরিবহন, কৃষি, গৃহকর্ম এবং প্রবাসী শ্রমবাজারে শ্রমিকদের শ্রমই দেশের অগ্রগতির মূলচালিকা শক্তি। তাই শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা কেবল আইনি দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্বও।
শ্রমিক দিবস নিয়ে মূল বিষয় : ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে শ্রমিকরা অমানবিক পরিস্থিতিতে ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হতো। এই দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের মে মাসে শ্রমিকরা আন্দোলন গড়ে তোলে এবং পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শ্রমিক শহীদ হন ।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে পহেলা মে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। শ্রমিক সংগঠনগুলো মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই দিনটি পালন করে। মহান মে দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামেই বিশ্ব সভ্যতার চাকা সচল থাকে। তাই তাদের সঠিক মূল্যায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সমাজের দায়িত্ব।শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে 'মে দিবস' হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এবারের মে দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো "Ensuring a Healthy Psychosocial Working Environment" বা "মানসিক ও সামাজিকভাবে সুস্থ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা"
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির বিপ্লবী মহাসচিব মো: মোক্তার আহমেদ। তিনি বলেন 'আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও শ্রমবান্ধব শ্রমিকের সার্বিক কল্যাণসাধন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিরন্তর কাজ করতে হবে এবং উন্নত বিশ্ব বিনির্মাণে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক, শ্রমিকের পেশাগত নিরাপত্তা ও সুস্থতাসহ সার্বিক অধিকার নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই।
মোক্তার আহমেদ প্রতিবাদী কন্ঠে বলেন, এবারের শ্রমিক দিবসের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া ও অধিকার বাস্তবায়নে করণীয় বিষয় গুলো হলো:
ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশের শ্রমনীতি ঢেলে সাজাতে হবে। অবিলম্বে সর্বজনীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা এবং খাতভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা এবং পেশাগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করতে হবে। বেতন ভাতাসহ নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করতে হবে। পাটকলসহ বন্ধকৃত সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা অবিলম্বে চালু করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের জন্য বাসস্থান, রেশনিং, চিকিৎসা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। সার, বীজ ও কীটনাশকের মূল্য কমাতে হবে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। রেল ও বন্দর শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধসহ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান এবং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে আইএলও কনভেনশনের আলোকে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সকল ধরনের শিল্প কল-কারখানায় শ্রমিক ছাটাই বন্ধ করতে হবে। প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের পুনর্বাসন, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী সম্পূণ ফ্রিতে দেশে আনতে হবে ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
পরিশেষে তিনি বলেন শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আজও অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। শ্রমের মর্যাদা হোক সর্বোচ্চ, আর প্রতিটি কর্মীর জীবনে অধিকার ও ন্যায্য প্রাপ্তি হোক নিশ্চিত।
প্রধান অতিথি তার বক্তৃতা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকার সাংবাদিক ফাউন্ডেশন সব সময় শ্রমিকের সম্মান, অধিকার ও ন্যায্য মজুরি আদায়ের সংগ্রামে পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।
মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য প্রয়োজন গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। চলুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হই-অধিকার আদায়ের সংগ্রামে, ন্যায়ের সমাজ গঠনের লক্ষ্যে।
পৃথিবীর সকল মেহনতি মানুষকে জানাই আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সংগ্রামী শুভেচ্ছা এবং মেহনতি ভাই-বোনের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়