ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠির রাজাপুর থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে দলীয় পদ ব্যবহার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. আবুল কালাম (বাদল) ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৮নং গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, মো. আবুল কালাম (বাদল), পিতা-মো. আব্দুস সামাজ (আবু), বর্তমানে রাজাপুর থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নৈশ প্রহরী (৩য় শ্রেণি) পদে কর্মরত রয়েছেন। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক দলের পদ গ্রহণ বা দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন না। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত রয়েছেন।
অভিযোগকারী মো. মিজানুর রহমান রাজু, পিতা-মো. শাহ আলম খান, গ্রাম-রূপসিয়া গাবখান, দাবি করেন— গত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আবুল কালাম বাদল আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তিনি নিজেকে সরকারি কর্মচারী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তার বিরুদ্ধে লুটপাট, চুরি, মারামারি, ভূমিদস্যুতা এবং অবৈধ অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ইতোমধ্যে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং ঝালকাঠি প্রেস ক্লাব বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি চাকরিজীবী হয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের পদে থাকা সরকারি চাকরি বিধির পরিপন্থী। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি দায়িত্বে থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়