রাজধানী ঢাকা আজ যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। এই যানজটের অন্যতম বড় কারণ হলো নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে হাজার হাজার অটোরিকশা এমনভাবে চলাচল করছে যে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি, আগামী মাস থেকে প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। আবার শোনা যাচ্ছে, কিছু অটোরিকশাচালক এ সিদ্ধান্ত মানবেন না এবং আন্দোলনের হুমকিও দিচ্ছেন।
আমার প্রশ্ন—রাষ্ট্রের আইন কি সবার জন্য সমান নয়? কোনো গোষ্ঠী কি আন্দোলনের হুমকি দিয়ে রাজধানীর সড়কব্যবস্থা জিম্মি করে রাখতে পারে?
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শুধু অভিযান চালিয়ে এই সমস্যা সমাধান হবে না। এটিকে পরিকল্পিত ও কৌশলগতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। প্রথমে প্রধান সড়ক সম্পূর্ণ অটোরিকশামুক্ত করতে হবে, এরপর পর্যায়ক্রমে বিকল্প ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমি নিজেই গ্রামের বাড়িতে টিনের কাজের জন্য দুইজন মিস্ত্রি খুঁজে পাইনি। দুই হাজার টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিকের সংকট ছিল। অথচ ঢাকার রাস্তায় অসংখ্য তরুণ অটোরিকশা চালাচ্ছেন। এটি আমাদের কর্মসংস্থানের ভারসাম্যহীনতারও একটি বড় উদাহরণ।
অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, যানজট বাড়ছে, অ্যাম্বুলেন্স আটকে যাচ্ছে, রোগী সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না, কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কোনো চাপ, হুমকি বা অরাজকতার কাছে রাষ্ট্র নতি স্বীকার করতে পারে না। রাজধানী ঢাকাকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে হলে প্রধান সড়কে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল বন্ধে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়।
আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। রাজধানী চলবে আইন অনুযায়ী, কোনো গোষ্ঠীর ইচ্ছা অনুযায়ী নয়।
— মোঃ জহিরুল ইসলাম হামিদ ✍️
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়