গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা-ভাঙচুর, ভুয়া চিকিৎসা এবং সরকারি চাকরির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ক্লিনিক পরিচালকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মোঃ নূর আমিন স্থানীয় ‘মডার্ণ ক্লিনিক’ ও ‘মডেল ডায়াবেটিস সেন্টার’-এর পরিচালক। তার এই বহুমুখী প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বসতবাড়িতে হামলা ও হত্যাচেষ্টা।
ভুক্তভোগী ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ১ জুলাই মডার্ণ ক্লিনিকের পরিচালক মোঃ নূর আমিন ও তার পিতা মোঃ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল স্থানীয় আবু সোয়াইব মুনতাসির আকন্দের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বাড়ির দেয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে ভুক্তভোগীর প্রায় ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়। এর আগে গত ২৫ জুন মুনতাসিরকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
ভুয়া চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যের চরম ঝুঁকি
অনুসন্ধানে জানা যায়, নূর আমিনের মালিকানাধীন ‘মডার্ণ ক্লিনিক’ এবং ‘মডেল ডায়াবেটিস সেন্টার’-এ রোগীদের চিকিৎসার জন্য কোনো প্রকার অভিজ্ঞ বা নিবন্ধিত (Registered) চিকিৎসক নেই। কোনো পেশাদার ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও পরিচালক নূর আমিন নিজেই ডাক্তার সেজে সরল-সোজা রোগীদের ভুল চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন)
দিয়ে আসছেন। এমনকি স্থানীয় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজে বিভিন্ন অপারেশন (অস্ত্রোপচার)
সম্পন্ন করছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজে একটি সরকারি চাকরি করার সুবাদে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব খাটিয়ে নূর আমিন একটি শক্তিশালী অপরাধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাকরিপ্রত্যাশীদের সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত এই ভুয়া ডাক্তার ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়