কাজী আশরাফুল আলম
টঙ্গী গাজীপুর
ঢাকার পার্শবর্তী গাজীপুর জেলার টঙ্গীর আশপাশের বস্তিগুলোতে পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান তীব্রতর হলেও, স্থানীয়দের চোখ এড়িয়ে গেছে আরফিনা মোমেলার ব্যাংক মাঠ বস্তি এলাকার অদ্ভুত ‘নিরাপত্তা’। যেখানে সকল প্রকারেই মাদক বিক্রি ও সেবন হাতের নাগালে, সেখানে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, খুন ও রাহাজানি—তবুও কেন আরফিনা মোমেলার এই এলাকা অভিযানের বাইরে?
গত কয়েকদিন ধরে টঙ্গীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও বস্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও হেরোইন জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরফিনা মোমেলা ব্যাংকের মাঠ বস্তিটিতে অভিযান চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে। হঠাৎ হঠাৎ অভিযান পরিচালনা হলেও আরফিনা ও মোমেলা আগাম খবর পেয়ে সটকে পড়েন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে সকালবেলা মাদককারবারিরা দল বেঁধে বসে, আর রাত নামলেই বাড়ে অপকর্ম।
এলাকাবাসী সুমন মিয়া বলেন, “আমাদের বস্তির আসে পাশে প্রতিদিন ছিনতাই, চাকুপেটে খুন, এমনকি দিনদুপুরে রাহাজানির ঘটনা ঘটছে। পুলিশ এলে তারা উধাও, কিন্তু পুলিশ ফিরে গেলেই আবার চালু হয় মাদকের আড্ডা। এই মাঠটা যেন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবন কারিদের সুরক্ষিত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মাঠ সংলগ্ন জায়গাটি প্রভাবশালী মহল কর্তৃক ‘নিয়ন্ত্রিত’ হওয়ায় অভিযান এড়িয়ে যাচ্ছে। উঁচুতলার কিছু মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার গুঞ্জনে নাকি বারবার লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হয়। আবার অভিযান স্থগিত করা হয়। অন্যদিকে, মাদকের সহজলভ্যতায় জড়িয়ে পড়ছে স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোররাও।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ দাবি করে বলছেন, শুধু ‘প্রদর্শনী’ অভিযান নয়—এই সুরক্ষিত ঘাঁটিতে নজরদারি বাড়াতে হবে। নিরাপত্তা চাই, মাদকমুক্ত বস্তি চাই। প্রশাসনকে এখনই কঠোর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
টঙ্গীর এই বস্তি এখন অপরাধের আঁতুড়ঘরে পরিণত হলেও, নির্দিষ্ট একটি অংশকে ‘অভিযানমুক্ত’ রাখার এই চিত্র যেন প্রশাসনের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আশা করা যায়, সত্য ও ন্যায়ের পথে শীঘ্রই এই ‘সুরক্ষিতকরণ’ রহস্যের সমাধান হবে।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়