নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজধানীর দক্ষিণখানের বিমানবন্দর আশকোনা সিটি কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় মাদক কারবার, মাদকদ্রব্য নগরী হিসেবে বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবার মতো মাদকদ্রব্যের সেবন ও কেনাবেচা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একাধিক গ্রুপ গ্যাংস্টার রয়েছে ২৪ ঘন্টা মাদকদ্রব্য কারবারে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন আরিফ খন্দকার, যাকে এলাকায় কেউ কেউ ‘গাঁজা আরিফ’ বা ‘বাটপার আরিফ’ নামে পরিচিত বলে দাবি করেছেন। মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পাখি চোরাচালানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
‘প্রকাশ্যেই চলছে মাদক সেবন-বেচাকেনা’
বিমানবন্দর রেলওয়ে থেকে আশকোনা সিটি কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে মাদক নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানা যায়। বিশেষ করে সিটি কমপ্লেক্স এর পিছনে আরিফের নিজস্ব জমিতে গাঁজা ও ইয়াবা কেনা বেচা ও সেবনের হট স্পট এ পরিনত করেছে।তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরিফ খন্দকারের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তার প্রভাবেই এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
‘গাঁজা আরিফ’ নামে পরিচিত?
রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিসুর রহমান নাঈম এর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন আরিফ খন্দকার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন,তাদের ওপর নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
থানায় অভিযোগ থাকার দাবি
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আরিফ খন্দকারের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানা ও উত্তরা পূর্ব এবং বিমানবন্দর থানায় অভিযোগ করে কিছু হবে না, স্থানীয় রাজনীতিবিদ কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী, মাদকদ্রব্য কারবার, টাউট বাটপার ধান্ধাবাজ চক্র নিয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে তাঁর।
পাখি চোরাচালানের অভিযোগও
বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সংগ্রহ, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে এবং ওই ব্যক্তিরও এতে সম্পৃক্ততা রয়েছে।
অভিযুক্তের বক্তব্যঃ অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরিফ খন্দকারের বক্তব্যের জন্য তাকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন বা বিক্রির পরিবেশ তৈরি হলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি পুরো তরুণ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে।
দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা দাবি
বিমানবন্দর-আশকোনা সিটি কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হোক। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পাখি চোরাচালানের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়