ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নের কীর্তিপাশা মৌজায় সরকারি জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত সরকারি সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনা নির্মাণ করে দখল বজায় রাখার পাশাপাশি সম্প্রতি ওই স্থাপনার ওপর আবারও নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি জমি উদ্ধারে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কীর্তিপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কীর্তিপাশা মৌজার এসএ ৫৪১ নং খতিয়ানের ৭৭৩ নং দাগের আনুমানিক ০.০০৫০ একর জমিতে অমুত্যল কুমার কর্মকারের ছেলে নিখিল কর্মকার প্রায় ১৫ বছর আগে একটি পাকা অবকাঠামো নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি ওই স্থাপনার ওপর পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলে কীর্তিপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা তাকে কাজ বন্ধ রাখার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিষেধ উপেক্ষা করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভূমি অফিসের নথিপত্র অনুযায়ী, উক্ত সম্পত্তি ১১২/৭০ নং ভিপি মামলার আওতাভুক্ত। বাংলাদেশ জরিপে জমিটি ১/১ নং খতিয়ানে ৭৭৩ নং দাগে জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় কীর্তিপাশা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার অনুরোধ জানিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত প্রতিবেদন দিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনো কোনো রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কথিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সরকারি জমিতে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণ করা হলে সেটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে সরকারি জায়গাটি উদ্ধার করা হোক।”
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের পর এখন প্রশাসন কত দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয় এবং সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কীর্তিপাশার স্থানীয়রা।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়