মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশসহ ভারতীয় দুইজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- আবদুল রহমান (৪৬) ও মোহাম্মদ ইকবাল আনসারি (৪৫)। তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে জানা গেছে ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দরের নিচতলায় আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)র ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর), বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন এ প্রতিবেদককে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দর, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও ডিএনসি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর), ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের (টিজি-৩২১) ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করে। আর ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন ওই দুই ভারতীয় নাগরিক। বিমানবন্দরে নামার পর তারা দিক বেদিক ঘুরাফেরা করলে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমে তাদের আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষী এবং বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সামনে তাদের ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়।
সহকারী পরিচালক আরও জানান, এ সময় কাপড়ের নিচে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে তল্লাশি চালিয়ে দু'টি ভারতীয় পাসপোর্ট, বিভিন্ন মানের ৫০০ মার্কিন ডলার, ৫০০ রুপি মূল্যমানের ২০টি ভারতীয় নোট যার মোট মূল্য ১০ হাজার রুপি, তিনটি স্মার্টফোন এবং দু'টি বোর্ডিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেল চার দিনে প্রায় পৌঁনে ৩ কোটি টাকার স্বর্ণ, মদ ও ওষুধ আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানান, গ্রেপ্তার দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর থানায় মামলা করা হয়েছে। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর), বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়