কাজী আশরাফুল আলম
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, গাজীপুর, গাবতলীসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও ব্যস্ত জনপদের অলিগলিতে ছোট পরিসরে গড়ে উঠছে একের পর এক আবাসিক হোটেল। কোথাও বহুতল ভবনের কয়েকটি কক্ষ নিয়ে, আবার কোথাও মাত্র তিন-চারটি রুম ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এসব হোটেল। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক হোটেল পরিচালনার আড়ালে কিছু প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে বিব্রত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিশেষ করে অল্পবয়সী নারী-পুরুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জনবসতিপূর্ণ এলাকা, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন কিংবা প্রধান সড়কের আশপাশে আবাসিক হোটেল গড়ে ওঠায় এর প্রভাব পড়ছে সামাজিক পরিবেশে। কিছু হোটেলে পরিচয় যাচাই, অতিথির তথ্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে হচ্ছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষ ভাড়া দেওয়ার সুযোগকে কেন্দ্র করে কিছু প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে এসব হোটেলে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক বা গ্রেপ্তার করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্ধার হয়েছে মাদকদ্রব্য কিংবা অন্যান্য অনিয়মের আলামত। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান পরিচালনার কয়েক দিন পরই অনেক জায়গায় আবার আগের মতো হোটেল কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। ফলে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। হোটেল পরিচালনার বৈধতা, ট্রেড লাইসেন্স, ভবনের ব্যবহার অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা, অতিথির পরিচয় যাচাই এবং নিবন্ধন ব্যবস্থা নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠছে, সেগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নজরদারি জোরদার করা দরকার।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, আবাসিক হোটেল ব্যবসা বৈধ হলেও কোনো হোটেল যেন অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়া হয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা ঝুঁকিপূর্ণ বয়সী নারী-পুরুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচয় যাচাই ও রেজিস্টার সংরক্ষণ বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করা জরুরি।
ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেলকে ঘিরে স্থানীয়দের অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি দেশের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সমস্যা নিয়ে সময়ে সময়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বরং নিয়মিত তদারকি, লাইসেন্স যাচাই, সিসিটিভি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত—এই সমন্বিত ব্যবস্থাই সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, আবাসিক হোটেল ব্যবসার বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি না হয়—এ জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখবে।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়