মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
তপ্ত দুপুরের সূর্যটা মাথার ওপর যখন আগুন ঢালছে, সাতক্ষীরা শহরের মোড়ে মোড়ে তখন ধুলো আর ধোঁয়ার রাজত্ব। চারদিকে গাড়ির হর্ন আর মানুষের ভিড়। এই তীব্র দাবদাহ আর যানজটের মহোৎসবে নীল পোশাকে ঘাম মুছতে মুছতে হাত নেড়ে চলেছেন একদল মানুষ তারা আমাদের ট্রাফিক পুলিশ। ক্যালেন্ডারের পাতায় রমজানের দিন গুলো দ্রুত ফুরিয়ে আসছে,আর রাজপথের এই অতন্দ্র প্রহরীদের ব্যস্ততা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।
সাতক্ষীরা শহরের প্রধান মোড়গুলোতে দেখা গেল,প্রখর রোদ উপেক্ষা করে যানজট নিরসনে লড়ছেন ট্রাফিক সদস্যরা। তৃষ্ণায় বুক ফেটে গেলেও রোজা মুখে তাদের বিরাম নেই। লক্ষ্য একটাই ঘর মুখী মানুষ গুলো যেন অন্তত শান্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। পিচ ঢালা তপ্ত রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একেক জন পুলিশ সদস্য যেন ক্লান্তির প্রতিমূর্তি,কিন্তু কর্তব্যে অবিচল। ইফতারের সাইরেন যখন বাজে,শহরের প্রতিটি ঘরে তখন উৎসবের আমেজ। কিন্তু এই মানুষ গুলোর কাছে ইফতার মানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এক ঢোক পানি আর সামান্য কিছু মুখে দেওয়া। পরিবারের সঙ্গে বসে ধোঁয়া ওঠা চপ-পেঁয়াজু খাওয়ার সৌভাগ্য তাদের হয় না। যখন বাড়ির ছোট শিশুটি বাবার জন্য অপেক্ষা করে,তখন বাবা হয়তো ব্যস্ত কোনো অ্যাম্বুলেন্সকে জটলা থেকে বের করে দিতে। সবাই যখন পরিবারের সাথে ইফতার করে,আমাদের তখন রাস্তার ধুলো বালিতেই ইফতার সারতে হয়। কষ্ট হয় ঠিকই, কিন্তু মানুষের মুখে হাসি দেখলে সেই ক্লান্তি টুকু আর থাকে না। সামনে ঈদ।যখন গোটা দেশ নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে,তখন এই ট্রাফিক সদস্যদের জন্য বাড়ি ফেরাটা এক বিলাসিতা। অনেকেরই এই ঈদে ঘরে ফেরা হবে না। উৎসবের দিনটিতে যখন সবাই নতুন পোশাক পরে ঈদগাহে যাবে,তারা তখন মহাসড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত থাকবেন। তাদের ঈদ কাটবে ধোঁয়াটে বাতাস আর গাড়ির চাকায় পিষ্ট হওয়া তপ্ত রাজপথে।
ব্যক্তিগত সুখ আর পারিবারিক আবদার বিসর্জন দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের এই সদস্যরা যে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন,তা কেবল দায়িত্ব নয় এক অনন্য আত্মত্যাগ। তাদের এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টায় সচল থাকে আমাদের জন জীবন, নিরাপদ থাকে আমাদের ঈদ যাত্রা।