ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি সদর উপজেলার ২ নং বিনাইকাঠি ইউনিয়নের বালকদিয়া গ্রামে মাছ চাষির গাছ কেটে ফেলে নিষ্ঠুর শত্রুতা ও মাছের ঘেরের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং প্রশাসনের কাছে সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, আনুমানিক বেলা ২টা ৩০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান টিটু মল্লিক (৪৬) অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিজ পৈতৃক ও চুক্তিভিত্তিক সম্পত্তিতে মাছের চাষ করে আসছেন। তার বাবার অংশের প্রায় ৪৫ শতাংশ জমি এবং বাকি জমি চাচাতো ভাইদের কাছ থেকে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করে তিনি মাছ চাষ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে তার অনুপস্থিতির সুযোগে তার চাচাতো ভাই—মোহাম্মদ বাবুল মল্লিক, মোহাম্মদ নাসির মল্লিক ও মোহাম্মদ সাইদ মল্লিকসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার ঘের এলাকায় প্রবেশ করে ব্যাপক ফসল ও মাছের ঘেরে ভাঙচুর চালায় এবং ফসলের ক্ষতি সাধন করে।
অভিযোগে জানা যায়, প্রতিপক্ষের দুর্বৃত্তরা মাছের ঘেরের পাড়ে প্রায় ২০টি কলাগাছের ঝাড় কেটে ফেলে। এছাড়া ঘরের পাশে থাকা সেগুন/সলম গাছ, আম গাছ, মেহগনি গাছ এবং ঘরের সামনে থাকা একটি মেহেদি গাছও কেটে নষ্ট করা হয়। শুধু তাই নয়, তারা ঘেরের বাঁধ কেটে মাছ ছেড়ে দিয়ে মাছ চাষের বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করে।
ভুক্তভোগী রাকিবুল হাসান টিটু মল্লিক জানান, অভিযুক্তরা পূর্ব থেকেই তাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিনও তারা তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে বাড়িতে আসে, কিন্তু তিনি উপস্থিত না থাকায় গাছ কাটা ও ঘের নষ্ট করে চলে যায়।
তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় পর্যাপ্ত সাক্ষী-প্রমাণ রয়েছে এবং বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করলে সত্য উদঘাটিত হবে।
বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার জীবনে এখন কোনো নিরাপত্তা নেই। আমি যেন আমার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিরাপদে বাড়িতে বসবাস করতে পারি, সে জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।