হাবিব সরকার স্বাধীন :
বনানী সুপার মার্কেটে টেইলার মাহবুব এর কর্মকাণ্ড ভাইরাল। একটি মাত্র ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব (ভ্যাট ও ট্যাক্স) ফাঁকির আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ‘মাহবুব টেইলার’ ও ‘আরনাজ ফ্যাশন’-এর মালিক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও এই চক্রটি তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে বঞ্চিত করে চলেছে।
ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকির কৌশল
বাণিজ্যিক নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি আলাদা ব্যবসায়িক সত্তার জন্য পৃথক ট্রেড লাইসেন্স ও বিনি (BIN – Business Identification Number) থাকা বাধ্যতামূলক। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
এক লাইসেন্সে বহু ব্যবসা: মাহাবুব এর একটি লাইসেন্স দিয়ে ছয়টি দোকান বা শোরুম চালাচ্ছেন, যার ফলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স ও লাইসেন্স ফি সরাসরি ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।
ভ্যাট জালিয়াতি: বিক্রয়লব্ধ অর্থের সঠিক হিসাব গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অধিকাংশ লেনদেনে বৈধ রসিদ ব্যবহার না করে সরকারের রাজস্ব আয় সংকুচিত করা হচ্ছে।
আর্থিক অপরাধ: আয়কর রিটার্নে সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করে বছরের পর বছর ধরে ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছে এই সিন্ডিকেট।
কাউন্সিলর মফিজের ‘ক্যাশিয়ার’ রেজার ভূমিকা
এই সিন্ডিকেটের আর্থিক নাটের গুরু হিসেবে কাজ করছেন কাউন্সিলর মফিজের সাবেক ক্যাশিয়ার রেজা। অভিযোগ রয়েছে যে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে কাউন্সিলর মফিজের যত অবৈধ ইনকাম এবং সিন্ডিকেটের অর্থ লেনদেন হতো, তার সবটাই নিয়ন্ত্রণ করতেন এই রেজা। বর্তমানে তিনি মাহবুবের সাথে হাত মিলিয়ে কালো টাকা সাদা করা এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজস্ব বিভাগের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
একটি লাইসেন্সে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করা সরাসরি পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন আইন এবং ভ্যাট আইন-২০১২-এর পরিপন্থী। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড কীভাবে চলছে, তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে: > “একই ট্রেড লাইসেন্সে একাধিক শোরুম পরিচালনা করা একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে শুধু স্থানীয় সরকারই রাজস্ব হারায় না, বরং জাতীয় পর্যায়ে ট্যাক্স বৈষম্য তৈরি হয়। এনবিআর (NBR) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত অবিলম্বে এদের ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসার বৈধতা যাচাই করা।”
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী সময়ে যেখানে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে, সেখানে মাহবুব ও রেজার মতো অসাধু ব্যবসায়ীদের এই সিন্ডিকেট রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি তুলেছেন, দ্রুত এই ভ্যাট চোর ও রাজস্ব ফাঁকিবাজ চক্রকে আইনের আওতায় এনে পাওনা অর্থ আদায় করা হোক। অন্যথায়, সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হতে পারে।