নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়।অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বর্তমানে কর্মরত আছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর জবাব চাওয়াতে প্রমান মিলে বলে মনে করছে অনেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের নারিকেলতলা খালের ওপর নির্মাণাধীন ৬৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল উত্তোলন এবং রিইনফোর্সিং বার (রড) ব্যবহারে অসঙ্গতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রধান প্রকৌশলী সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-বরাবর তার বিভিন্ন কাজের অনিয়মের অভিযোগে লিখিত আকারে তুলে ধরে স্মরকলিপি পাঠান স্হানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে এক ব্যাক্তি।স্মরকলিপিতে উল্লেখ করেন তার অনিয়ম ও দুর্নীতির সকল তথ্য।
বিশেষ করে, ব্রিজের ব্রীস্ট ওয়াল নির্মাণ ও রড ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকৃত কাজের সঙ্গে বিলের উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়েছে। এর ফলে কয়েক লাখ টাকার অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বিষয়টি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে বলে দেখা গিয়েছে। কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—এ মর্মে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে ঐ চিঠিতে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।বর্তমানে তিনি ৫ নং কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেন বলে জানা যায়।তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, উক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ গুলোর মধ্যে রয়েছে—সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, দাপ্তরিক কাজে অবহেলা ও অনুপস্থিতি, ভিজিডি কর্মসূচিতে নাম অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দিয়ে অর্থ গ্রহণ,সহযোগী এলসিএস শরীফ হোসেনের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ সংগ্রহ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন তহবিলের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ভিজিডি ও জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাৎ এবং নাগরিক সনদ প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ আদায়।এছাড়াও তিনি ভিডাব্লিউ কার্ডের চাল দেয়ার সুবাদে ৫০০ টাকা করে কার্ড প্রতি নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামানের অনুপস্থিতিতে নিজেকে ওই পদে পরিচয় দিয়ে সড়ক, ভবন ও কালভার্ট মেরামতের কাজে নিম্নমানের নির্মাণকাজ সম্পাদন করা হয়েছে। কাজের মান যাচাই না করেই অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে বিল প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করে আসছেন।
দুর্নীতির আনীত অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডির উপ-সহকারী মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে রেগে গিয়ে তিনি বলেন আপনি অভিযোগের চিঠি চীপ স্যারের কাছে পাঠিয়ে দেন!পরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেন নি।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী স্হানীয় সরকর প্রকৌশল অধিপ্তর কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গের।