নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উত্তর কানজরপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্র কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইয়াবা ও অস্ত্রসহ একাধিকবার আটক হলেও অদৃশ্য প্রভাবের কারণে জামিনে বের হয়ে আবারও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের “সোর্স” পরিচয় ব্যবহার করে শাহাব উদ্দিন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং সেই পরিচয়ের আড়ালে নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে সাধারণ মানুষও তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক পাচারের সঙ্গে শাহাব উদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। শুধু মাদক নয়, অস্ত্র কারবারের সঙ্গেও তাঁর জড়িত থাকার কথা এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তাঁর নাম এলেও রহস্যজনক কারণে তিনি বারবার আড়ালে থেকে যাচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার অগ্রগতি কিংবা তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি নিজের প্রভাব আরও বিস্তার করেছেন। ফলে অনেকে ভয়ে প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের ভাষ্য, সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার নতুন কিছু নয়, তবে কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়ার অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। শাহাব উদ্দিনও সেই তালিকার একজন বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের মতে, মাদক কারবারের কারণে তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, পরিবারগুলো ভেঙে পড়ছে এবং অপরাধ প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি অভিযোগ করেন, শাহাব উদ্দিনের মতো অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা চোখে পড়ছে না। তারা বলেন, প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তা শুধু আইনের শাসনের জন্য নয়, প্রশাসনের ভাবমূর্তির জন্যও হুমকিস্বরূপ।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যদি কোনো ব্যক্তি প্রশাসনের “সোর্স” পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, সীমান্তবর্তী টেকনাফে মাদক ও অস্ত্র কারবার বন্ধ করতে হলে শুধু বাহক নয়, মূলহোতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, শাহাব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলেছেন, যারা বিভিন্নভাবে তাঁকে সহযোগিতা করে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় ভয়ে মুখ খুলতে চান না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসী আরও জানান, টেকনাফে মাদকের বিস্তার রোধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময় কঠোর অবস্থান নিলেও কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি নানা কৌশলে সেই অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছে। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয় থাকলেই তাকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবার সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে অন্যদের জন্য কঠোর বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।
তবে এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে শাহাব উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।