নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকা ১ নং ব্লকে এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারী চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। সন্ধ্যার পর এলাকাটিতে সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা চক্রটির মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ রয়েছে ‘এতিম সেলিম’-এর বিরুদ্ধে। তার সাথে অপরাধ কর্মে সক্রিয় রয়েছে শুক্কুর ওরফে কামলা শুকুর, সোহান ওরফে চাকমা সোহান ও পিচচী বাবুসহ অজ্ঞাত আরও কয়েক যুবক।
এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে উঠে আসে এক ভয়াবহ চিত্র। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “সোহান নামের ছেলেটি মেইন রোডে সাইকেল ও ক্যামেরা নিয়ে পথচারীদের ওপর যে ধরনের ছিনতাই চালায়, তা আমাদের চোখে সয়ে গেছে। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। যদি প্রতিবাদ করি, তাহলে আমাদের ওপরই খড়গ নেমে আসে।”
আরেক বাসিন্দা জানান, “এরশাদনগর এলাকায় মাদক কারবারি শুক্কুর তার সহযোগীদের নিয়ে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা করে। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই। প্রশাসন কেন এদের দেখছে না, সেটাই আমাদের প্রশ্ন।”
এলাকাবাসীর দাবি, অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তারা একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অনেকেই অভিযোগ করতে গিয়েও উল্টো হয়রানির ভয়ে পিছু হটেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, অপরাধীদের কর্মকাণ্ডের অনেক ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে, যার মধ্যে সোহানের ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে। তারা বলছেন, এই ফুটেজগুলো বিশ্লেষণ করলেই চক্রের স্বরূপ বেরিয়ে আসবে। অপরাধীদের চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত ছবি ও তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা কেন আইনের বাইরে রয়েছে, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, দাড়িওয়ালা সেলিম বা ডিলিংকস সেলিম হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি পুরো এলাকায় ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার প্রদান করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই চক্রটিকে আইনের আওতায় না আনা হলে এরশাদনগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “এলাকাবাসীর অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও অভিযোগ পেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে এরশাদনগর এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।