কাজী আশরাফুল আলম
টঙ্গী গাজীপুর
গাজীপুরের টঙ্গীর মাদক অধ্যুষিত ব্যাংক মাঠ বস্তিতে ডাক নামে পরিচিত ‘বড় আপা’ আরফিনা বেগম এলাকার আলোচিত এক মাদক সম্রাজ্ঞী। তার মূল পরিচয় ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। তবে অভিযান এড়াতে এই মাদক কারবারের আড়াল করেছেন গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসার মাধ্যমে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরফিনা বেগমের একটি নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী রয়েছে। বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান হলেও আগাম খবর পেয়ে তিনি ‘শটকে’ পড়েন, অর্থাৎ অদৃশ্য হয়ে যান। এর প্রধান কারণ, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও থানা পুলিশের অসাধু সদস্যদের সঙ্গে তার আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে ।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৬-৭ বছরে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ তাকে একবারও আটক করতে পারেনি। প্রতিবারই তিনি কোনোভাবে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান ।
জনচোখ এড়াতে আরফিনা বেগম এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করেন। এই বৈধ ব্যবসার আড়ালেই চলছে তার মাদকের জমজমাট কারবার। পুলিশি তৎপরতা বাড়লে তিনি নিজেকে গ্যাস ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রশাসনকে গুলিয়ে ফেলেন
এর আগে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ছত্রছায়ায় ব্যবসা চালালেও সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কিছু নেতার সহায়তায় তিনি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের ।
মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থে আরফিনা এবং তার স্বজনরা টঙ্গী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তবে এসব সম্পদ নিজের নামে না কিনে আত্মীয়-স্বজনের নামে রেখেছেন তিনি। এর আগে টঙ্গীর আরেক মাদক সম্রাজ্ঞী মোমেলা বেগমের মতো তিনিও বস্তিতে থেকে ছাগল পালনের অজুহাত দেখিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যান ।
খবর সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে আরফিনা বেগম তাদের হুমকি দিয়ে থাকেন। তিনি সরাসরি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে তার …. ‘ছিরবে’ — যা সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এ কারণে অনেকে প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না ।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “রি-কভার (সরাসরি মাদকসহ গ্রেপ্তার) ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়” ।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হয়েছে, যা প্রমাণ করে মাদক ব্যবসায়ীরা কতটা সক্রিয় ও শক্তিশালী ।
বস্তির সাধারণ মানুষ বলছেন, আরফিনা বেগম যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছেন। প্রশাসন যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই মাদক সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত হবে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর ।
দ্বিতীয় পর্ব আসছে