উত্তরখান মাস্টারপাড়ায় মোবাইল চোর অপবাদ দিয়ে সহজ সরল হাবাগোবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সুমন কে, বেধম প্রহার করে সোহেলের নেতৃত্বে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র।
বর্তমানে চিকিৎসার অভাবে বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে সুমন।বিপাকে সুমনের অসহায় দরিদ্র বাবা-মা এই ঘটনায় এলাকাবাসির নিন্দা প্রকাশ।
এমনই এক তথ্য উঠে আসে এ, আর, মজিদ শরিফে এর প্রতিবেদনেঃ
রাজধানীর উত্তরখান শীতলেরটেকে দীর্ঘদিন বসবাসরত সুমনকে মোবাইল চুরির অপবাদে
মাস্টার পাড়া কলাবাগান একটি ডেভলপারের নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের প্রজেক্টের ইঞ্জিনিয়ার
মোঃ সোহাগের নেতৃত্বে
তপন, ফেরদৌস সহ কয়েকজন সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে মব সৃষ্টি করে, সুমনকে আর সিসি পিলার এর সাথে হাত পা বেঁধে এস এস পাইপ দিয়ে প্রচন্ড প্রহার করে মারাত্মক জখম অবস্থায় ফেলে রাখে মুমূর্ষ অবস্থায়।এক পর্যায়ে মাওলা নামে এক ব্যক্তি ছেলেটিকে তার ঠিকানায় অটো রিক্সা যুগে পৌঁছে দেয় সুমনের নিজ বাসায়। এলাকাবাসী জানায়,” সুমন নামে এই ছেলেটি দীর্ঘদিন আমাদের এলাকায় তার বাবা-মায়ের সাথে বসবাস করে আসছে।” এবং কি এলাকার কিছু কনস্ট্রাকশন শ্রমিকরা জানায় , “সুমন নামে এই ছেলেটি তাদের সাথে হেলপার হিসেবে কাজ করে। ছেলেটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নিজের নামটাও ঠিক করে বলতে পারে না,জিজ্ঞেস করলে। মোবাইল চুরি তো দূরের কথা, সে দোকানপাটে গিয়ে কিছু কিনে খেতে হলেও অন্যের সহযোগিতা লাগে। ছেলেটিকে যারা এভাবে মেরে মারাত্মক জখম করেছে, তাদেরকে অতিসত্বর আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।” অন্যদিকে সুমনের মা-বাবা জানায়, “আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় আমার ছেলেকে এত আঘাত করেছে একটা পশুকেও এভাবে কেউ মারেনা আমার ছেলেকে আমরা কিভাবে চিকিৎসার খরচ যোগাবো? আমাদের সংসারে রয়েছে প্রচন্ড অভাব অনটন । এখন আমাদের সংসার কিভাবে চলবে ? যারা আমার ছেলেকে অযথা মাইরধর করেছে আমরা তাদের বিচার কামনা করি প্রশাসনের কাছে।” উল্লেখ্য যে, ছেলেটি বিভিন্ন সময় অভাবের তাড়নায় বাপের সংসার চালানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে কাজ খোঁজাখুঁজি করে । ওইদিন তার কোনো জায়গায় কাজ না থাকায় মাস্টারপাড়ায় কাজের সন্ধানে বের হলে, দুর্বৃত্তরা তাকে মোবাইল চোর আখ্যা দিয়ে হাত-পা বেঁধে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে মারধোর করে।
এটা কোনো সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না। যারাই এই অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের মতো অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে বুঝিয়ে দেওয়া উচিৎ, এই দেশে কোনো মব সন্ত্রাসীদের স্থান নেই। বর্তমানে চিকিৎসার অভাবে সুমন বিছানায় কাতরাচ্ছে, কিভাবে চলবে তার চিকিৎসা?
শুধু তাই নয়, সুমনকে বেঁধে মারধোর করার পর মুমূর্ষ অবস্থায় ফিল্মি স্টাইলে ডান্স করানো হয়। দিনের পর দিন এভাবে যদি মব সন্ত্রাসীরা আইনকে হাতে তুলে নেয়, অচল হয়ে পড়বে সমাজ ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে উত্তরখান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন, সুমনের হতভাগা পিতা মোঃ একলাস।অভিযোগের আয়ু সাব ইন্সপেক্টর হুমায়ুন বলেন, “অভিযুক্ত একটি আসামিকেও ছাড় দেওয়া হবে না।”