ঢাকা:রাজধানীতে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় এক প্রবীণ ব্যবসায়ীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী ডি. এ. পারভেজ (৬২) প্রথমে মতিঝিল থানা এবং পরবর্তীতে দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ভুক্ত করেছেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল অভিযুক্ত এম এ খালেক হোসেনের (৫০) বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত আইনি নোটিশ (লিগ্যাল নোটিশ) জারি করেছেন।মামলা ও নোটিশ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা এম এ খালেক হোসেন ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ভুক্তভোগী ডি. এ. পারভেজের কাছ থেকে নগদ ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা ধার নেন। টাকা নেওয়ার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ৩টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে (যার নম্বর: খচ-৬৬৩৮১৪২, খচ-৪৬৩৯১৪৩, খচ-৪৬৩৯১৪৪) একটি আনুষ্ঠানিক “টাকা ধার (ঋণ) দেওয়া/নেওয়ার চুক্তিপত্র” সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে খালেক হোসেন তার নিজ নামীয় উত্তরা ব্যাংক পিএলসি (উত্তরা শাখা)-এর একটি স্বাক্ষরিত চেক (চেক নম্বর: ১৬৭৮৫৭৫) পারভেজকে প্রদান করেন।পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ডি. এ. পারভেজ উক্ত চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার (প্রত্যাখ্যান) করে। ব্যাংক থেকে সরবরাহকৃত রিটার্ন মেমোতে চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হিসেবে অ্যাকাউন্টে “তহবিল অপর্যাপ্ত (Insufficient Fund)” এবং চেকে দেওয়া “স্বাক্ষরের অমিল (Signature Mismatch)”-এর কথা উল্লেখ করা হয়।ডিজঅনার স্লিপ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী পারভেজ বিবাদীর কাছে টাকা ফেরত চাইলে খালেক হোসেন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সর্বশেষ, বিবাদী খালেক হোসেন ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কল করে চরম অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পাওনা টাকা আর দাবি করলে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার (প্রাণনাশের) হুমকি দেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দক্ষিণখান থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৮৮৭) দায়ের করেন।ভুক্তভোগীর আইনজীবী জানিয়েছেন, ১৮৮১ সালের দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট)-এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী এই আইনি নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত ৩০ দিনের আইনি সময়সীমার মধ্যে চেকের সমপরিমাণ টাকা ফেরত না দিলে অভিযুক্ত এম এ খালেক হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।