সেলিম রেজা তাজ, স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনা বিভাগে বাজার তদারকিতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের চারটি টিম পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারদর এবং ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয়।
অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
খুলনা মহানগরীর সদর থানার আহসান আহমেদ রোডে অভিযান:
খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অপরাধে ল্যাবকন ফার্মেসিকে ৬ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অপরাধে ল্যাবকন ডায়াগনস্টিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
বড় বাজার এলাকায় অভিযান:
সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সদর থানার বড় বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করার অপরাধে মেসার্স জেরিন এন্টারপ্রাইজকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
খালিশপুরের বিআইডিসি রোডে অভিযান:
খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে খালিশপুর থানার বিআইডিসি রোড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদনের অপরাধে পিওর ড্রিংকিং ওয়াটারকে ৫ হাজার টাকা, ইসলামিয়া মিষ্টি ঘরকে ৩ হাজার টাকা এবং বিসমিল্লাহ মিষ্টি মহলকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ঝিনাইদহে অভিযান:
ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে সদর উপজেলার মহিষাকুন্ডু এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের অপরাধে পারফেক্ট হোমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সব মিলিয়ে অভিযানে ৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের বাজার তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।