বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
মিথ্যা বিজ্ঞাপন ও অনিয়মে খুলনায় ৯ প্রতিষ্ঠানকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা টঙ্গীতে স্টেশন রোড সড়ক দখলমুক্ত ও যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান । যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া থেকে প্রাইভেটকার জব্দ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়কে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনায় নারীসহ গ্রেফতার-২ ‎বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ৩ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক উত্তরায় লিবার্টি ক্লাবে র‌্যাবের অভিযান – বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ- বিয়ারসহ গ্রেফতার-২ গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা গ্রেপ্তার ৫ কাশিয়ানীতে ৩২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ বেনাপোল সীমান্তে ৪৯ বিজিবির অভিযান, মদ-সিরাপসহ বিপুল পণ্য আটক ‎যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৬ লাখ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য আটক ‎ ইয়াবায় ভাসছে তুরাগের ৩৩টি গ্রাম, ১০১ স্পটে শতাধিক ডিলার সক্রিয়

সাতক্ষীরায় প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে যেতে হয় উপকূলের হাজারো মানুষ

Reporter Name / ১৮ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে যেতে হয় উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে,বাওয়ালি ও মৌয়ালদের। বাঘের আক্রমণ,বিষধর সাপের দংশন, বনদস্যুদের অপহরণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয় মাথায় নিয়েই তারা নদী-খাল আর গভীর বনের ভেতর সংগ্রাম করে চলেছেন পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার আশায়।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর,আশাশুনি ও কয়রা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার অনেক পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস সুন্দরবন। মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, গোলপাতা কাটা, মধু সংগ্রহের জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে বন বিভাগ থেকে পাশ নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন তারা। তবে প্রতিটি যাত্রাই যেন অনিশ্চিত এক জীবনযুদ্ধ।
স্থানীয় জেলে ও মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোরে নৌকা যোগে তারা বনের গভীরে প্রবেশ করেন। সেখানে দিনের পর দিন থাকতে হয় খালে ও জঙ্গলের ভেতরে। কখন কোথা থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণ আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার নদীর চরে কিংবা গাছের নিচে লুকিয়ে থাকা বিষধর সাপের কামড়ের ঘটনাও প্রায় ঘটে।
শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার জেলে আমজাদ শেখ জানান,আমরা জানি বনে গেলে জীবিত ফিরে না ও আসতে পারি। তারপরও সংসারের জন্য যেতে হয়। মাছ না ধরলে ঘরে খাবার জোটে না।
অন্য দিকে, বনদস্যুদের দৌরাত্ম্যও এখন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় জেলে ও মৌয়ালদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কেউ কেউ মারধর ও নির্যাতনের শিকারও হন। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটান বনজীবীরা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন,সুন্দরবন নির্ভর মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বনদস্যু দমনে নিয়মিত অভিযান,বনজীবীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
এদিকে বনজীবীদের দাবি,সুন্দরবনে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা বাড়ানো জরুরি। তারা বলেন,আমরা দেশের সম্পদ রক্ষা করি, অথচ আমাদের জীবনই সবচেয়ে অনিরাপদ।
প্রতিদিনের ভয় আর অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই সুন্দরবনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন উপকূলের হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল পরিবার। সুন্দরবনে বনজীবিদের নিরাপত্তার বিষয়ে বন কর্মকর্তারদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, বনের ভিতরে আমাদের সদস্যরা সব সময় সুন্দরবনের বৈধ স্থানে জেলে বাওয়ালিদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।বন কর্মকর্তা আরো বলেন,কিছু অসাধু জেলে বাওয়ালি নিষিদ্ধ স্থানে ঢুকে মাছ, কাঁকড়া ধরতে যেয়ে বিপদগামী হয়ে থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com