ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের গাবখান এলাকায় পৈত্রিক জমি দখলচেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রফিক মৃধা ও মোস্তফা মৃধার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষিকা সাঈদা সুলতানা সাথী (৫০) ঝালকাঠি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাথীর প্রায় ৯০ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মেহেদি হাসান (নাসির) বর্গাচুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদ করে আসছেন। চলতি বছর নতুন করে তিন বছরের বর্গাচুক্তির আওতায় জমিতে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে উন্নতজাতের ঘাস চাষ শুরু হয়। এ অবস্থায় অভিযুক্তরা বর্গাদারকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন, চাপ ও হুমকি দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
বাদীপক্ষের দাবি, গত ১০ মে বিকেল ৩টার দিকে বর্গাদার নাসির ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে অভিযুক্তরা প্রায় ৫৭ শতক ঘাসচাষকৃত জমিতে বালু ফেলে জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা চালায়। এতে চাষাবাদের ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সাঈদা সুলতানা সাথী জানান, অভিযুক্তরা ওই জমিতে বালু ফেলে মজিবর রহমান মুন্সী, আজিবর রহমান মুন্সী, হাসান ও ইবান শিকদারের নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে ৫৭ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা ও তাদের সহযোগীরা এলাকায় তার ও পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। গ্রামের বাড়িতে গেলে তাদের লাঞ্ছিত করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, ঢাকায় বসবাসরত তার ছোট চাচা গুরুতর অসুস্থ এবং চাচাতো ভাই প্রবাসে থাকায় অভিযুক্তরা সুযোগ নিয়ে ভিটাবাড়ি থেকে বিভিন্ন অস্থাবর সম্পদ চুরি ও ক্ষয়ক্ষতি করে আসছে।
এছাড়া বাদীপক্ষের অভিযোগ, ছোট চাচার নির্মাণাধীন বাড়ির ঠিকাদারি নিয়ে বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা রাতে সেখানে স্থানীয় কিছু যুবককে নিয়ে পিকনিক ও সমাবেশের আয়োজন করছে। এসব কর্মকাণ্ডকে সম্ভাব্য হামলা বা লাঞ্ছনার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সন্দেহ করছেন তারা।
সাঈদা সুলতানা সাথী বলেন, “আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছি।”
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য এবং এলাকায় জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন বাদী।
তবে অভিযুক্ত মোস্তফা মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই জমির সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
এ বিষয়ে ঝালকাঠি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।