মোঃলিমন হোসেন
গাজীপুর মহানগরসহ টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় কথিত শীর্ষ মা/দক ব্যবসায়ী রাসেল ও সাথী গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ভয়ংকর এক মা/দক সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে এই চক্র প্রকাশ্যে মা/দক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসলেও রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এই গ্যাং, আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, “সাথী” নামে পরিচিত এক নারী এই চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বে গাজীপুর মহানগর, টঙ্গী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মা/দক সরবরাহ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা মা/দকের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। যার কারণে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং পরিবারগুলোতে বাড়ছে অশান্তি।স্থানীয়দের অভিযোগ, সাথী গ্যাং শুধু মা/দক ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ নয়, তারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে নিরীহ মানুষদের নানা ভাবে টার্গেট করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো, হুমকি দেওয়া কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই নিরাপত্তার ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি গাজীপুরের যোগিতলা গ্রামের রাকিব নামে এক অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে জিম্মি করে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সাথী গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। রাকিব পেশায় একজন সাধারণ অটোরিকশা চালক ও দিনমজুর। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই রাকিবকে টার্গেট করে আসছিল এই চক্র। পরে সুযোগ বুঝে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, গরিব ও অসহায় মানুষই মূলত এই গ্যাংয়ের প্রধান টার্গেট। যাদের প্রতিবাদ করার মতো ক্ষমতা নেই, তাদের ওপরই চলে বেশি অত্যাচার। স্থানীয়রা আরও জানান, এলাকায় রাত বাড়লেই বেড়ে যায় মা/দক সেবনকারীদের আনাগোনা। এতে করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, “আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। কিন্তু মা/দক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের কারণে এলাকায় এখন ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, গাজীপুর ও টঙ্গী এলাকায় মা/দক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।