অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ইসা প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
গত রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ-এর উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. মালেক ফরাজি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ইসা। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব জনাব এম. এ. রউফ। কাতার
সভায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবাসী প্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, আইনজীবী, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা সাবেক চলমান প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথি মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা দের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ছয় দফা দাবি নিয়ে যে আন্দোলন করছেন, তা দেখে তিনি মুগ্ধ ও অভিভূত।
তিনি বলেন,
“আমিও একজন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাস করছি। লন্ডনে অধ্যাপনা করেছি এবং বর্তমানে অবসরজীবনে রয়েছি। প্রবাসীরা যে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ন্যায্য অধিকার ও দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন, তার সঙ্গে আমি একমত এবং আমার সাধ্য অনুযায়ী পাশে থাকব।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের মৌলিক পরিবর্তন ঘটানো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাই তাদের ন্যায়সংগত দাবি রাষ্ট্রের সামনে সুসংগঠিত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে তুলে ধরতে হবে।
আজকের আলোচনার সকল সম্মানিত নেতৃবৃন্দ
তারা বলেন,
“দাবি শুধু উত্থাপন করলেই হবে না, সরকারকে তার যৌক্তিকতা বুঝাতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব এবং ন্যায়সংগত অধিকার আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাব। ইনশাআল্লাহ।
নিজেকে সরকারপক্ষের একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মধ্যে একটি ইতিবাচক সেতুবন্ধন তৈরিতে তিনি ভূমিকা রাখতে চান। এক্ষেত্রে সরকারের স্বার্থ, প্রবাসীদের ন্যায্য স্বার্থ এবং সর্বোপরি দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে।
রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার বলেন
“আমরা শুধু প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অধিকার নিয়েই কথা বলি না। আমরা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা, শিক্ষা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, স্বাধীন সংসদ এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথাও বলি।
রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার সংসদ বলেন, সংগঠনটি বাংলাদেশের শিক্ষা, সমাজ ও জাতীয় জীবনে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘দেশবন্ধু’ উপাধিতে সম্মানিত করার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষাক্ষেত্রে ঐতিহাসিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নবাব স্যার সলিমুল্লাহকে ‘দেশবন্ধু’ উপাধিতে সম্মানিত করা হয়েছে। রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ সদস্য পরিবার
বলেন, আমাদের স্বপ্ন এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে একজন মানুষ স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করবে, মর্যাদার সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন করবে এবং স্বাভাবিক ও নিরাপদভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারবে।”
স্বাধীন সংসদের দাবি
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার ও আজকের আলোচনার সকল নেতৃবৃন্দ বললেন সংসদ
বলেন, সংসদ সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্বাধীন মতপ্রকাশ ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
এডভোকেট এ এন ঈসা বলছেন
সংবিধানের ৭০খ-এর প্রাসঙ্গিক বিধান সংস্কারের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা যেন স্বাধীন বিবেচনায় ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়ে জাতীয় আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার বলেন
“আমরা চাই বাংলাদেশের সংসদ এমনভাবে পরিচালিত হোক, যাতে পৃথিবীর কেউ বলতে না পারে যে বাংলাদেশের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নিজেদের বিবেক ও বিবেচনা অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন না।” রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পারিবার বলেন
২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলন
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ইসা ঘোষণা করেন, ২০২৭ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের একটি আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, মহাসম্মেলনের পর সংগঠনের কার্যকরী কাঠামো আরও সুসংহত করা হবে। এর আগেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান আহ্বায়ক কমিটিগুলোকে পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মহাসম্মেলন উপলক্ষে সংগঠনের ইতিহাস, কার্যক্রম, আন্দোলন, অর্জন, ছয় দফা দাবি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ পুস্তিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক খানের বক্তব্য
সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মালেক খান সংগঠনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি প্রতিটি সভার মিনিট বা কার্যবিবরণী যথাযথভাবে লিখিত ও সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন, যাতে ভবিষ্যতে সংগঠনের সিদ্ধান্ত, প্রস্তাব, কর্মসূচি ও ইতিহাসের একটি নির্ভরযোগ্য রেকর্ড থাকে।
ফ্রান্স প্রতিনিধি জালাল উদ্দিন ও মীরজা সুমন ও
ফ্রান্স কমিটির পক্ষ থেকে জালাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্নভাবে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। অল্পসংখ্যক সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর কারণে সাধারণ মানুষ যেন তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য জনগণের ঐক্য প্রয়োজন।
রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার ও
মেজর ইমরান মিয়া
লায়ন আঃ কাদির জিলানী
ফেরদৌস আব্দুল আজিজ
রেয়াজ আবু সাইদ
মোহাম্মদ আবূল হাশেম
“আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো সুবিধাবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন মানুষের ন্যায্য অধিকার আটকে রাখতে পারবে না।
মানবাধিকারকর্মী আব্দুল কাদের জিলানির বক্তব্য
বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনের আব্দুল কাদের জিলানি বলেন, মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজকে সমতা, শিক্ষা, আইনের শাসন ও বৈষম্যহীনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, জাতি, গোষ্ঠী, নারী-পুরুষ কিংবা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিককে আইনের সমান সুরক্ষা দেওয়াই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত।
ড. অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য
ড. অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন,
“গরিব হয়ে জন্মগ্রহণ করা অপরাধ নয়; কিন্তু নিজের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কোনো চেষ্টা না করা একটি বড় ব্যর্থতা।”
তিনি মানুষের আত্মপ্রচেষ্টা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দক্ষতা এবং ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষের চেষ্টা ও কর্মকে মূল্যায়ন করেন। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিজেদের উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
মিসেস নাসরিন আক্তার
রউফের বক্তব্য রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার সদস্য
রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা মিসেস নাসরিন রউফ বলেন, তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের উদ্যোক্তা সংগঠক স্পিকার
সদস্য সচিব এম. এ. রউফ দীর্ঘদিন ধরে দেশ, জাতি এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবারে
উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ন্যায়সংগত ছয় দফা দাবি এবং বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
আমিনুর রশিদের বক্তব্য
লন্ডন থেকে জনাব আমিনুর রশিদ বলেন, ছয় দফা দাবি শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। দাবি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক কাঠামো এবং নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন
মির্জা সুমনের বক্তব্য
ফ্রান্স কমিটির আহ্বায়ক মির্জা সুমন বলেন,
“আমরা কারও করুণা চাই না, আমরা ভিক্ষা চাই না। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ চাই।”
তিনি বলেন, নাগরিকদের অধিকার রাষ্ট্রের অনুগ্রহ নয়; সংবিধান, আইন এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সেই অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মেজর (অব.) ইমরানের বক্তব্য
মেজর (অব.) ইমরান দেশের সাধারণ মানুষের বিভিন্ন নাগরিক দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত না হলে কোনো উন্নয়নই পূর্ণতা পেতে পারে না।
তিনি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য মৌলিক সেবা নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে কমিটি গঠনের প্রস্তাব মোহাম্মদ আঃ ওয়াহাব রিংকু বললেন
সভায় একজন প্রকাশক ও সম্পাদক মতামত প্রদান করে বলেন, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের দাবি, গবেষণা, প্রস্তাব এবং কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের সামনে সুশৃঙ্খলভাবে তুলে ধরার জন্য একটি বিশেষ সমন্বয় কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
শাহিদা পারভীন রত্নার বক্তব্য
রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট শাহিদা পারভীন রত্না বলেন,
“প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ছয় দফা দাবি এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার উন্নয়ন একই সূত্রে গাঁথা। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির পূর্ণ সার্থকতা অর্জন সম্ভব নয়।”
তিনি বলেন, প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা যেমন জরুরি, তেমনি দেশের ভেতরে নারী, শিশু, দরিদ্র, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মুজিবুর রহমানের বক্তব্য
ফ্রান্স প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার পরিস্থিতির দৃশ্যমান ও স্থায়ী উন্নতি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তন হলেই হবে না; প্রশাসনিক সংস্কৃতি, সেবা প্রদান, জবাবদিহি এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বাস্তব পরিবর্তন আনতে হবে।
ড. শরিফ সাকি বলেন,
এডভোকেট মির সিরাজ
এডভোকেট তাজুল ইসলাম
মুস্তাফিজূর রহমান রিপন
“দলের চেয়ে দেশ বড়—এই কথাটি শুধু মুখে বললে হবে না, মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে এবং বাস্তব জীবনে কার্যকর করতে হবে।” হাকিকূল ইসলাম খোকন
হাজী আনোয়ার আমেরিকা কমিটি বলেন
সত্য ও ন্যায়ের চর্চা নিজের পরিবার ও ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। ব্যক্তি নিজে ন্যায়পরায়ণ না হলে সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠার দাবি দুর্বল হয়ে পড়ে।
মোঃ ফজলুল করিম শেখ ও
ইসমাইল খান সাবেক চলমান রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার
বক্তব্য বলেন
তাঁরাও প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিয়ে কাজ করছেন। প্রবাসীদের কল্যাণ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের মতো অভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করতে পারে।
তিনি পারস্পরিক সহযোগিতা, সমন্বয় এবং অভিন্ন দাবি নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্য
সভাপতির বক্তব্যে ড. মালেক ফরাজি বলেন,
“অধিকার কেউ কাউকে সহজে দিয়ে দেয় না; অধিকার আদায় করতে হয়। আর ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কোনো জাতি ঐক্যবদ্ধ না হয়ে তার ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।”
তিনি একই সঙ্গে স্পষ্ট করেন যে, অধিকার আদায়ের আন্দোলন অবশ্যই নিয়মতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ, সাংবিধানিক এবং জনকল্যাণমুখী হতে হবে।
তিনি বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশেরই সন্তান এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই এমনভাবে আন্দোলন ও উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করতে হবে, যাতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অযথা ক্ষতি না হয় এবং দেশের সার্বিক কল্যাণ অগ্রাধিকার পায়।
ড. মালেক ফরাজি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ইসা এবং সদস্য সচিব এম. এ. রউফ-এর উদ্দেশে সংগঠনকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর আহ্বান জানান।
তিনি বিশেষভাবে তিনটি বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব করেন:
একটি নীতি নির্ধারণী কমিটি গঠন;
সংগঠনের একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান বা গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও কার্যকর করা;
প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ।
তিনি বলেন, সংগঠন যত বড় হবে, ততই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, নিয়মিত কার্যবিবরণী, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যের আহ্বান
সভায় সংগঠনের সদস্য সচিব জনাব এম এ রউফ অভিমত প্রকাশ করেন যে, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদানকে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়। তাদের পরিবার, সামাজিক অবদান, জ্ঞান, দক্ষতা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
সভা থেকে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে দেশ-বিদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজ এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও নিয়মতান্ত্রিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা, আইনের শাসন, শিক্ষা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়েও একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি
সভা শেষে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের প্রধান উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক খান পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন এবং দেশ, জাতি, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিশ্বের সকল মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ
সভা শেষে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ইসা বলেন, “আমরা দেশের মানুষের অধিকার, প্রবাসীদের ন্যায্য দাবি এবং মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে যে সময়টুকু একত্রে ব্যয় করেছি, মহান আল্লাহ যেন আমাদের এই সময়টুকুকে ইবাদতের খাতায় কবুল ও লিপিবদ্ধ করেন।”
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আগামী দিনগুলোতে ঐক্য, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রচারার্থে
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ