কাজী কেয়া
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পূবাইল থানাকে চুরি, ছিনতাই, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি আদর্শ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি এলাকার মসজিদের খতিব, শিক্ষক, বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেছেন।
সম্প্রতি পূবাইল থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে উল্লেখ করে ওসি আতিকুর রহমান বলেন, “পুলিশের একা পক্ষে সমাজ থেকে শতভাগ অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পূবাইল গড়তে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে মসজিদের খতিব ও শিক্ষকরা সমাজে নৈতিকতা ছড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।”
স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তার পরিচয় কেবলই একজন অপরাধী।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় মূলত ৪টি প্রধান বিষয়ে জোর দেওয়া হয়:
. মাদক নির্মূল: যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়।
. ছিনতাই ও চুরি রোধ: রাতের বেলা পুলিশের টহল জোরদার করার পাশাপাশি মহল্লায় মহল্লায় নৈশপ্রহরী ও সচেতন নাগরিকদের পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করার তাগিদ দেওয়া হয়।
. চাঁদাবাজি বন্ধ: কোনো ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ যেন চাঁদাবাজির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।
. ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা: জুমার খুতবায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে অপরাধ, মাদক ও কিশোর গ্যাং-এর কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় স্থানীয় ওলামা মাশায়েখ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ওসির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং পূবাইল থানাকে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।