কাজী আশরাফুল আলম
টঙ্গী গাজীপুর
রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে অটোরিকশার চাপ দিনদিন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বেড়েছে যানজট, নাভিশ্বাস অবস্থা জনজীবনে, হচ্ছে সময়ের অপচয়, নিরাপত্তাহীনতা ও সময় সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক অটোরিকশা হয়েই যেন বাড়িয়ে তুলছে লোডশেডিং, এমনকি সরকারি রাজস্বও হারাচ্ছে হাজার কোটি টাকা।
ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর, প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। এই বিপুল জনগণের চাহিদা মেটাতে অটোরিকশার সংখ্যাও বেড়েছে কয়েকগুণ । কিন্তু এই বাড়াবাড়ির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইনি কাঠামো।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, বেশিরভাগ গ্যারেজ ও অটোরিকশা মালিকের কাছে নেই বৈধ মিটার বা ফিটনেস সার্টিফিকেট। অনিয়মিতভাবে চলা এসব অটোরিকশা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । থেমে থেমে চলা এসব যানবাহন প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশা গ্যারেজে চার্জ দিতে গিয়ে ব্যাপক অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে। সোনালী নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাড়তি লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব অনিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ ব্যবহার। একদিকে যেমন অপচয় হচ্ছে বিদ্যুৎ, অন্যদিকে বাড়ছে জাতীয় গ্রিডের চাপ ।
শুধু তা-ই নয়, বৈধতার অভাবে গ্যারেজ মালিকরা সঠিক কর দিচ্ছে না, ফলে সরকারি রাজস্বও পড়েছে মারাত্মকভাবে। ট্রাফিক আইন-২০২৬ অনুযায়ী ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও মিটারবিহীন অটোরিকশা চলাচলের জন্য কঠোর জরিমানা ও লাইসেন্স পয়েন্ট কাটার বিধান থাকলেও, তা কার্যকর হচ্ছে না কার্যকরভাবে ।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অটোরিকশা ব্যবস্থার এই অরাজকতা কমানো সম্ভব হলে শহরের যানজট ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে, পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়বে কয়েক হাজার কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। প্রয়োজন কঠোর নজরদারি, বৈধ মিটারের বাধ্যবাধকতা এবং অবৈধ সংযোগ বন্ধে অভিযান। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে সর্বত্র।