মিহিরুজ্জামান সাতক্ষীরাঃ
প্রকাশিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরা জেলার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শত ভাগ অকৃতকার্য হওয়ার তালিকায় উঠে এসেছে উপজেলা পর্যায়ের নিম্ন মাধ্যমিক ও নৈশ বিদ্যালয়ের নাম। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাতক্ষীরায় শত ভাগ ফেল করা ৪ প্রতিষ্ঠান হলো, আশাশুনি উপজেলার,আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। সাতক্ষীরা সদরের সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয় (নাইট স্কুল)। দেবহাটা উপজেলার,বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়। শ্যামনগর উপজেলার সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী বিদ্যালয়। আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা জানান,এ বছর তাদের বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে মোট চার জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।
দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের বেহাল দশার কথা তুলে ধরে কার্যালয় সহকারী (অফিস সহকারী) নূর হোসেন জানান,২০০১ সাল থেকে শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পান না। ফলে শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না। কাগজে-কলমে আট জন শিক্ষক থাকলেও তারা অনুপস্থিত থাকেন একজন শিক্ষিকা ও ধর্ম শিক্ষক থাকলেও তারা ঠিক মতো সময় দেন না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বলতে গেলে আমি অফিস সহকারী হিসেবে একাই স্কুলটি দেখে-শুনে টিকিয়ে রেখেছি। গত বছরও পাঁচ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চার জন পাস করেছিল,তবে এবার চরম বিপর্যয় ঘটেছে। সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়ের ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান জানান, ফলা ফলের সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে তার জানা নেই। বোর্ড ও অনলাইন কেন্দ্রীক নথি দেখে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
শ্যামনগরের কৈখালি ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়টি শত ভাগ অকৃতকার্য হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে প্রধান শিক্ষকের মুঠো ফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন,যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ফলা ফলের বিস্তারিত পাঠানো হচ্ছে। যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সে গুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড.আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড,মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। ফলা ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়,সারা দেশের ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এ বছর সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল।