তার অপরাধ ছিল- তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক, ঘুষ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
আর এজন্যেই এই মানুষটাকে বদলি করে দেয়া হয়েছে।
তাকে অন্যান্যদের মতো জোরজবরদস্তি করে বদলি করা হয় নাই, বদলি করা হয়েছে কৌশলে, যাতে জনগণ বাটপারিটা বুঝতে না পারে।
তাকে প্রমোশন দিয়ে ঘুটু করে অন্য জায়গায় বদলি করে দেয়া হয়েছে। অথচ উনি এই জেলাতে জয়েন করেছেন মাত্র সাড়ে তিন মাস হয়। হ্যাঁ সাড়ে তিন মাস।
এত কম সময়ে কখনোই বদলি হওয়ার কথা না। অন্যান্যদের যেখানে মিনিমাম বছরখানেক পর বদলি করা হয়েছে সেখানে তাকে বদলি করা হলো মাত্র সাড়ে তিন মাসে। কারণ তিনি কুষ্টিয়াটাকে পাল্টাতে চেয়েছিলেন।
কুষ্টিয়াতে সবচেয়ে বেশি গাঁজা, মাদক আর সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলতো। তিনি জয়েন করার পরপরই সেগুলোর বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিয়েছিলেন, বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। অনেকটা সফলও হয়েছিলেন।
তাই সিন্ডিকেট আর প্রভাবশালী নেতারা মিলে তাকেই বদলি করে দিল।
এই মানুষটা এতটাই সৎ ছিলেন যে- কোন অনুষ্ঠানে তার জন্যে বড় চেয়ারের ব্যবস্থা রাখলে তিনি খুশি হতেন না। বলতেন- জনগণের টাকা এভাবে অপচয় করার দরকার নাই।
কোন গিফট দিলেও নিতে চাইতেন না যদি কেউ কোন সুবিধা চেয়ে বসে।
গতকাল তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন- আমি সবসময় লাগেজ গুছিয়েই রাখি কারণ আমাকে এক এলাকায় বেশিদিন থাকতে দেয়া হয় না।
এই মানুষটার বদলি আটকাতে আজকে শত শত মানুষ এসেছিল ডিসি অফিসে। নারী, পুরুষ সবাই প্রচন্ড রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল এই জেলার বহুদিনের আপন সে।
কিন্তু এত এত মানুষের বিক্ষোভ, স্লোগান কোনটাই ইকবাল হোসেনের বদলি আটকাতে পারে নাই। মাদকের সিন্ডিকেট আর প্রভাবশালী নেতাদের কাছে হার মানতেই হয়েছে।
যেই মানুষটা একরাশ স্বপ্ন নিয়ে কুষ্টিয়ায় এসেছিল কুষ্টিয়াটাকে পাল্টাবেন বলে আজ তাকেই বদলি করে দেয়া হলো।
আমরা মাঝেমধ্যেই আফসোস করে বলি প্রশাসনে কেন সৎ লোক নাই, যোগ্য লোক নাই। দু’একজন অবশ্যই আছে কিন্তু এত এত চোর বাটপারদের ভিড়ে তারা আর টিকতে পারে না।
আমরা জনগণরা আসলেই কপালপোড়া। এত এত আশা করে মাঝেমধ্যে দু একজন সৎ লোককে পাই কিন্তু দিনশেষে কেন যেন তাদেরকেও হারিয়ে ফেলতে হয়