ফুটপাত দখলমুক্ত করা জরুরি—এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। শহরের মানুষের হাঁটার অধিকার, যানজট কমানো, নগর শৃঙ্খলা—সবকিছুই এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই শেষ নয়। প্রশ্নটা আরও গভীর—যাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তারা যাবে কোথায়?
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে শত শত হকার দোকান গুটাতে বাধ্য হয়েছে। কোথাও মালামাল জব্দ, কোথাও জরিমানা, আবার কোথাও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে।
ফলাফল—একদিনেই হাজারো পরিবার জীবিকার অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, এই হকারদের বড় একটি অংশ শহরের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষ। কারো গ্রামের জমি নেই, কারো স্থায়ী চাকরি নেই। ফুটপাতই তাদের শেষ ভরসা। তাই উচ্ছেদ হলেই তারা হারিয়ে যায় না—বরং কিছুদিন পর আবার ফিরে আসে আগের জায়গায়।
এটাই মূল সমস্যা।
শুধু উচ্ছেদ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না—এটা বহুবার প্রমাণিত।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘নাইট মার্কেট’ বা ‘হলিডে মার্কেট’-এর মতো কিছু বিকল্প পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—সেগুলো কি বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে? কতজন হকার সেখানে জায়গা পাচ্ছে? 
একদিকে নাগরিক স্বস্তি, অন্যদিকে মানুষের পেটের দায়—এই দুই বাস্তবতার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে এই সংকট।
সমাধানটা হয়তো খুব কঠিন নয়, কিন্তু দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা—
✔ নির্দিষ্ট হকার জোন
✔ স্বল্প ভাড়ায় মার্কেট
✔ নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
✔ বিকল্প কর্মসংস্থান
কারণ সত্যিটা হলো—
ফুটপাত পরিষ্কার করা যতটা জরুরি,
মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা তার চেয়েও জরুরি।
এই দুইয়ের সমন্বয়ই হতে পারে একটি মানবিক ও টেকসই শহরের পথ।