খান মোহাম্মদ বায়েজিদ হোসাইন, উত্তর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ॥ নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত না হলেও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভূঞাপুর পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনাগোনা ও প্রচার-প্রচারণা বেশ জোরে সোরেই শুরু হয়েছে। ব্যানার ফ্যাস্টুনে ছেয়ে গেছে পৌর শহরের অলিগলি। শহর ছাড়িয়ে শহরতলী এমনকি মহল্লায় মহল্লায় রাস্তার দু’পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছে গাছে দেখা যাচ্ছে দৃষ্টিকাড়া রং বেরংয়ের ব্যানার ফেস্টুন। বিগত ১৯৯৪ সনে তৎকালীণ বিএনপি সরকার কর্তৃক ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পৌরসভার আয়তন ১০.৯৫ বর্গ কিলোমিটার, মহল্লার সংখ্যা ১৬টি, ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার।
নির্বাচন ঘনিয়ে এলে বোঝা যাবে মেয়র পদে ভোটের দৌঁড়ে কে এগিয়ে। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় থাকা যাদের নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তাদেরই একজন খাজা লিয়াকত হোসেন। তবে খাজা নামেই তিন সবার কাছে পরিচিত। বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে জড়িত তিনি। বলাচলে হাতেগোনা যে কয়েকজন মানুষ ভূঞাপুরে বিএনপির ভীত রচনা করেছিলেন তাদেরই একজন খাজা লিয়াকত হোসেন। পদ পদবীতে বিশ্বাসী নন খাজা লিয়াকত হোসেন। তার মতে দলকে ভালোবেসে দলের আদর্শকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়াটাই মুখ্য বিষয়।
ভূঞাপুর পৌরসভার বেতুয়া পলশিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাই মিয়ার ৭ পুত্রের মধ্যে খাজা লিয়াকত হোসেনই সবার বড় এবং সবাই প্রতিষ্ঠিত। এখনো তারা ৭ ভাই আছেন একান্নভূক্ত পরিবারে। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের গর্বিত পিতা তিনি। দুই সন্তানই তার উচ্চ শিক্ষিত ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সদস্য খাজা লিয়াকত হোসেন টেপিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ সভাপতিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত।
সুন্দর মুখ, মিষ্টি কণ্ঠ আর শিশু সুলভ মার্জিত আচার-আচারণের অধিকারি তেজদীপ্ত এই মানুষটি কথা প্রসঙ্গে জানালেন- জীবনটাতো মাত্র ক’দিনের জন্য, আর এই স্বল্প সময়ের মাঝে শুধু নিজেকে নিয়ে না ভেবে জনকল্যাণ নিয়ে ভাবাটাই ঢেঢ় বেশি শ্রেয়। কারণ মানুষ মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে তার রেখে যাওয়া কর্মকান্ড ঘিরে। তিনি চান পৌরবাসীর মুখে হাঁসি ফোঁটাতে- তিনি চান ভূঞাপুর পৌর এলাকার সমস্যাগুলোর অবসান ঘটাতে। আর এর আলোকেই পৌরবাসীর সমর্থন পেলে তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করে হতে চান পৌরবাসীর সুখ-দুঃখের সাথী।
তিনি জানালেন- মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর স্বার্থে অনেক পরিকল্পনাই রয়েছে তার। তন্মধ্যে যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন সুন্দর নগর গড়ে তোলা, জলাবদ্ধতা দূরী করণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাস্টার প্লান গ্রহণ, জনভোগান্তি লাগবে কর নির্ধারণ জনগণের সহনীয়তার মধ্যে নিয়ে আসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে শিক্ষার মান উন্নয়নে ও শিক্ষার্থী ঝড়েপড়া রোধে যথাযথ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের নিয়ে আমি চিন্তিত। তবে বিপথগামী এই মানুষগুলোকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে আমার পরিকল্পনা রয়েছে, যা’ সকল মহলে প্রশংসিত হবে। সন্ত্রাস দমনে বড় বড় বুলি আওরিয়ে জনগণকে মিথ্যে সান্তনা দেয়ার কোন মানেই হয় না। কারণ ক্ষমতাসীন কিছু কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের সোনার টুকরো ছেলেগুলোকে বানায় সন্ত্রাসী। কাজেই সন্ত্রাস দমনে সন্ত্রাসী তৈরির কারিগরদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। বিপথগামীদের জন্য করতে হবে সম্মান জনক কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা। এলাকার উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হচ্ছে- রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন। আর তাই রাস্তা ঘাটের উন্নয়নকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। সুন্দর জাতি গঠনে শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার নানাবিদ পরিকল্পনা রয়েছে তার। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছে প্রকাশ করে তিনি বলেন- মসজিদ- মাদরাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়েও রয়েছে আমার সুচিন্তিত পরিকল্পনা। এক কথায় চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ নানাবিধ নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত বৃহৎ জনগোষ্ঠির ভাগ্যোন্নয়নে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রেখে মানুষের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি ভূঞাপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করতে সবার দোয়া, আশির্বাদ, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।
সবশেষে পৌরবাসী সবার সুন্দর আগামী, সার্বিক সফলতা, সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন- আল্লাহ সবার সহায় হউন।